মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মুমিনুল হক। কারণ, আরেকটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেও তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছাতে পারেননি এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৯১ রানে আউট হয়ে ফেরার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—মুমিনুল কি সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও বারবার থেমে যাচ্ছেন?
সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ব্যাটিং পরিসংখ্যান দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়। টেস্টে শেষ চার ইনিংসে করেছেন ৮২, ৬৩, ৮৭ ও ৯১ রান। অর্থাৎ প্রতিবারই বড় ইনিংসের আভাস দিয়েছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শতক হয়নি। পাকিস্তানের স্পিনার নোমান আলী–এর বলে এলবিডব্লু হয়ে আউট হওয়ার পর কিছুটা হতাশা থাকলেও সেটিকে খুব বেশি বড় করে দেখছেন না মুমিনুল।
দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রথমে একটু হাস্যরসই করলেন তিনি। মজার ছলে বললেন, এত দিন খুব একটা আক্ষেপ হয়নি, তবে এবার হয়তো স্ত্রী একটু রাগ করতে পারেন। তাঁর এই মন্তব্যে পুরো সংবাদ সম্মেলন কক্ষে হাসির রোল পড়ে যায়।
তবে মজা শেষে আবার সিরিয়াস হয়ে নিজের আসল ভাবনার কথাই তুলে ধরেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত সেঞ্চুরির চেয়ে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রান করাই বেশি মূল্যবান। কয়েক মিনিট খারাপ লাগলেও পরে সেটি কাটিয়ে উঠেছেন বলেও জানান তিনি।
২০১৮ সালের পর থেকে মুমিনুলের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার প্রায় পুরোপুরি টেস্ট ক্রিকেটকেন্দ্রিক। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়ায় টেস্টই তাঁর একমাত্র বড় মঞ্চ। তাই নিজেকে প্রস্তুত রাখা এবং অনুপ্রাণিত করার কাজটাও তাঁকেই করতে হয়। তিনি বলেন, টেস্ট ব্যাটিং তিনি উপভোগ করেন এবং খুব বেশি বাড়তি চিন্তা না করে নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চান।
মুমিনুল মনে করেন, বড় ইনিংস খেলতে হলে দীর্ঘ সময় উইকেটে থাকার মানসিকতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, তিনি সাধারণত সেঞ্চুরির কথা ভেবে ব্যাটিং করেন না; বরং লক্ষ্য থাকে চার বা পাঁচ সেশন ব্যাটিং করার। সেটি ঠিকভাবে করতে পারলে শতক কিংবা দেড় শ রান এমনিতেই চলে আসে। তবে এই জায়গাটিতে আরও মানসিক দৃঢ়তা প্রয়োজন বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।
একই ম্যাচে অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে নাজমুল হোসেন শান্ত–এর সেঞ্চুরি দেখেছেন মুমিনুল। শান্ত তাঁর ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ ফিফটিকেই শতকে রূপ দিতে পেরেছেন। অন্যদিকে মুমিনুলের টেস্টে ১৩টি সেঞ্চুরি থাকলেও ফিফটি করে সেঞ্চুরি না পাওয়ার সংখ্যা এখন ২৬। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কোথায় পিছিয়ে যাচ্ছেন তিনি? মুমিনুল অবশ্য মনে করেন, শতকের চিন্তা না করে দীর্ঘ সময় ব্যাটিংয়ের দিকেই আরও মনোযোগ দিলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
ম্যাচ পরিস্থিতি নিয়েও আশাবাদী ছিলেন মুমিনুল। তাঁর মতে, টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম এক ঘণ্টা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বলে পাকিস্তানি বোলাররা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে সেই সময়টা উইকেট না হারিয়ে পার করতে পারলে দল ৪০০ থেকে ৪৫০ রানের বড় সংগ্রহ গড়তে পারবে বলে বিশ্বাস তাঁর।
মিরপুরের উইকেট নিয়ে ম্যাচের শুরু থেকেই আলোচনা চলছে। অনেকে মনে করছেন, টসে জিতে পাকিস্তানের বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। যদিও এ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি মুমিনুল। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, বাংলাদেশ টস জিতলেও প্রথমে ব্যাটিংই করত। তাঁর মতে, প্রতিপক্ষ উইকেট বুঝতে ভুল করেছে কি না, সেটি বলা কঠিন, কারণ তিনি নিজের দল নিয়েই ভাবতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

0 Comments