Ad Code

আইপিএল নাকি ভিডিও গেম? ২২০ রানও এখন নিরাপদ নয়!



আইপিএল মানেই চার-ছক্কার উৎসব। প্রতি মৌসুমেই ব্যাটসম্যানরা নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছেন, আর সেই সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সংজ্ঞাও। এক সময় ২০০ রান মানেই প্রায় নিশ্চিত জয় ধরা হতো। কিন্তু ২০২৬ মৌসুমে এসে সেই ধারণা পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন ২০০ তো দূরের কথা, ২২০ রান করেও নিশ্চিন্তে থাকার সুযোগ নেই কোনো দলের।

চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৪৯ ম্যাচে ৪১ বার স্কোরবোর্ডে উঠেছে ২০০ বা তার বেশি রান। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৪ বার বেশি। শুধু রানই বাড়েনি, বেড়েছে সেই রান তাড়া করে জেতার ঘটনাও। প্রথম ৪৮ ম্যাচে ২৩ বার দলগুলো ২০০–এর বেশি লক্ষ্য পেয়েছে, আর তার মধ্যে ১২ বারই পরে ব্যাট করা দল ম্যাচ জিতে নিয়েছে। কয়েক বছর আগেও যা ছিল প্রায় অসম্ভবের মতো।

গতকাল হায়দরাবাদের বিপক্ষে ২৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাঞ্জাব ২০২ রানে থেমে যায়। তবে এবারের আইপিএলের ধারা অনুযায়ী এই হারটাই যেন ব্যতিক্রম। কারণ এই মৌসুমে বড় রান তাড়া করাটা অনেকটা স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গত বছর পুরো টুর্নামেন্ট মিলিয়ে যেখানে ২০০+ রান সফলভাবে তাড়া হয়েছিল ৯ বার, সেখানে এবার মাত্র ৪৮ ম্যাচেই হয়েছে ১২ বার।

 

আরও অবাক করার মতো তথ্য হলো, ২২০ রানের বেশি সংগ্রহও এখন নিরাপদ নয়। এবারের আসরে ১৩ বার দলগুলো ২২০–এর বেশি রান তুলেছে। কিন্তু এর মধ্যে ৮ বারই সেই লক্ষ্য তাড়া করে জিতে গেছে প্রতিপক্ষ। আইপিএলের আগের ইতিহাসে যেখানে ২২০+ রান তাড়া করে জয় ছিল হাতে গোনা কয়েকটি, সেখানে এবারই যেন সব হিসাব বদলে গেছে।

এই পরিবর্তনের পেছনে বড় কারণ হিসেবে অনেকে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মকে দেখছেন। যদিও এই নিয়ম আগেও ছিল। তাই শুধু এটিকে দায়ী করলে পুরো চিত্র বোঝা যায় না। আসলে দলগুলোর মানসিকতায় এসেছে বড় পরিবর্তন। এখন ব্যাটসম্যানরা শুরু থেকেই ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলছেন। লক্ষ্য যত বড়ই হোক, সেটিকে অসম্ভব ভাবার প্রবণতা প্রায় নেই বললেই চলে।

বিশেষ করে পাওয়ার প্লেতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এখন ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রথম ৬ ওভারে রানরেট প্রথমবারের মতো ১০ ছাড়িয়েছে। আর ২০০–এর বেশি রান তাড়ার ক্ষেত্রে এই গতি আরও ভয়ংকর। সফল বড় রান তাড়াগুলোতে পাওয়ার প্লের গড় রানরেট প্রায় ১৩.৮১। অর্থাৎ প্রতি ওভারে প্রায় ১৪ রান করে তুলছে দলগুলো।

এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ দেখা গেছে গুয়াহাটিতে রাজস্থান রয়্যালস ও বেঙ্গালুরুর ম্যাচে। ২০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লে শেষেই রাজস্থান তুলে ফেলেছিল ৯৭ রান। তরুণ ব্যাটসম্যান বৈভব সূর্যবংশীর ২৬ বলে ৭৮ রানের বিস্ফোরক ইনিংস সেই ম্যাচকে একপেশে করে দেয়। এমন শুরু পাওয়ার পর বাকি ওভারগুলোতে ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপই থাকছে না।

শুধু পাওয়ার প্লে নয়, ১০ ওভারের মধ্যেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে দলগুলো। সফল ১২টি বড় রান তাড়ার মধ্যে ১০ বারই দলগুলো অর্ধেক ওভারের মধ্যেই লক্ষ্যের অর্ধেকের বেশি রান তুলে ফেলেছে। ফলে শেষ দিকে গিয়ে ম্যাচ আর নাটকীয় হচ্ছে না। বেশিরভাগ ম্যাচই ১৯ ওভারের আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

হায়দরাবাদের বিপক্ষে বেঙ্গালুরুর ২০২ রান মাত্র ১৫.৪ ওভারে তাড়া করে জয়ের ঘটনা সেটিই প্রমাণ করে। এটি আইপিএল ইতিহাসের দ্রুততম ২০০+ রান তাড়া করে জয়। এসব ম্যাচ দেখিয়ে দিচ্ছে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এখন পুরোপুরি ব্যাটসম্যানদের খেলা হয়ে উঠেছে।

তবে সব ম্যাচেই যে বড় লক্ষ্য তাড়া হচ্ছে, তা নয়। মুম্বাই ইন্ডিয়ানস বা চেন্নাইয়ের মতো দলগুলো এখনও বড় স্কোর গড়ে বড় ব্যবধানে জিতছে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে এবারের আইপিএল প্রমাণ করে দিয়েছে, ২০০ বা ২২০ রান আর আগের মতো ভয় ধরানো স্কোর নয়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের নতুন যুগে এখন মনে হচ্ছে, যত রানই করুন না কেন—ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো লক্ষ্যই নিরাপদ নয়।

 

Post a Comment

0 Comments