বৃষ্টিতে বারবার খেলা থেমেছে, ইনিংস শেষ করতে লেগেছে প্রায় তিন ঘণ্টা। কিন্তু মাঠে যখন ব্যাট হাতে নামলেন মিচেল মার্শ, তখন যেন সব অপেক্ষারই মূল্য মিলল। শুরু থেকেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বোলারদের উপর চড়াও হন এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। চার-ছক্কার বন্যা বইয়ে টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি।
লখনউ সুপার জায়ান্টসের ব্যাটিং যেন পুরো ইনিংসজুড়ে ছিল আক্রমণাত্মক মেজাজে। একনার মাঠে বৃষ্টির মাঝেও মার্শের ব্যাট থেকে আসতে থাকে বড় বড় শট। আরসিবির বোলাররা কোনোভাবেই তাকে থামানোর উপায় খুঁজে পাচ্ছিলেন না। পাওয়ারপ্লে থেকে ডেথ ওভার—সব জায়গাতেই আধিপত্য ছিল মার্শের।
অন্যদিকে, মৌসুমে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা আর্শিন কুলকার্নির জন্য দিনটা খুব একটা ভালো যায়নি। তিনি দ্রুত রান তুলতে ব্যর্থ হন এবং চাপের মধ্যেই খেলছিলেন। দ্বিতীয় দফা বৃষ্টির বিরতির পর আবার খেলা শুরু হলে তার ইনিংসেরও সমাপ্তি ঘটে।
তবে কুলকার্নির বিদায় লখনউর জন্য উল্টো ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এরপর ক্রিজে নামেন দলের পাওয়ার-হিটাররা। নিকোলাস পুরান নিজের স্বভাবসুলভ আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তুলতে শুরু করেন। অল্প সময়ে ঝড়ো ৩০ রানের ইনিংস খেলে দলের স্কোরকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান তিনি।
শেষদিকে অধিনায়ক রিশাভ পান্তও ব্যাট হাতে ছিলেন দুর্দান্ত। মাত্র ১০ বলে অপরাজিত ৩২ রান করেন তিনি। ছোট এই ইনিংসেই ছিল বড় প্রভাব। কয়েকটি বিশাল ছক্কা ও দ্রুত বাউন্ডারিতে শেষ ওভারগুলোতে রান তোলার গতি আরও বেড়ে যায়।
সব মিলিয়ে লখনউ সুপার জায়ান্টস বোর্ডে তোলে বিশাল সংগ্রহ। বৃষ্টি আইনে পরে আরসিবির জন্য সংশোধিত লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ২১৩ রান। লক্ষ্য কঠিন হলেও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কিছুই অসম্ভব নয়। এখন দেখার বিষয়, বেঙ্গালুরু কি এই রান তাড়া করে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনতে পারে, নাকি মার্শ-পান্তদের ঝড়েই ম্যাচের ভাগ্য আগেই নির্ধারিত হয়ে গেছে।

0 Comments