আইপিএলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর উদাহরণ দেখাল কলকাতা নাইট রাইডার্স। শুরুতে কিছুটা চাপে পড়লেও মাঝের ওভারগুলোতে স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ম্যাচের গতি পুরোপুরি নিজেদের দিকে নিয়ে আসে। অন্যদিকে দিল্লি ক্যাপিটালস শুরুটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে করলেও শেষ পর্যন্ত বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি।
দিল্লির দুই ওপেনার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। বিশেষ করে পাথুম নিশাঙ্কা খুব সাবলীলভাবে রান তুলতে থাকেন এবং দ্রুত নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন। তার ব্যাটে কয়েকটি চমৎকার বাউন্ডারি আসে, যা পাওয়ারপ্লেতে দিল্লিকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়।
তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় সপ্তম ওভার থেকে। কলকাতার স্পিন আক্রমণ ধীরে ধীরে দিল্লির ব্যাটারদের চাপে ফেলে দেয়। ৭ থেকে ১৪ ওভারের মধ্যে রান তোলার গতি অনেকটাই কমে যায়। একই সঙ্গে চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে বড় ধাক্কা খায় দিল্লি। ব্যাটাররা সহজে বাউন্ডারি বের করতে না পারায় ইনিংসের গতি থেমে যায়।
এরপর অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল এবং আশুতোষ শর্মা ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন। তারা কিছুটা স্থিরতা আনলেও কলকাতার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণে বড় শট খেলা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে রানবোর্ড এগোলেও কাঙ্ক্ষিত গতি পাওয়া যায়নি।
ম্যাচের শেষ দিকে আবার কিছুটা চাপ তৈরি হয় কলকাতার জন্য। বরুণ চক্রবর্তী নিজের শেষ ওভারে ১৬ রান খরচ করেন। এর পাশাপাশি আগের ম্যাচে পাওয়া চোটের অস্বস্তিও দেখা যায় তার মধ্যে। ওভার শেষ করার পর তাকে কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে দেখা যায়, যা দলের জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে।
তবে শেষ পর্যন্ত কলকাতার বোলাররা দারুণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন। পাওয়ারপ্লে এবং শেষের কয়েকটি ওভার বাদ দিলে পুরো ইনিংস জুড়েই তারা দিল্লির ব্যাটারদের চাপে রেখেছে। বিশেষ করে শেষ ওভারে কার্তিক ত্যাগী অসাধারণ বোলিং করেন। তিনি মাত্র ৩ রান দেন, যা দিল্লিকে বড় স্কোরে পৌঁছাতে দেয়নি।
সব মিলিয়ে এটি ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের বোলারদের একটি পরিপূর্ণ দলীয় পারফরম্যান্স। শুরুতে কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও মাঝের ওভারগুলোর নিয়ন্ত্রণই শেষ পর্যন্ত ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়।

0 Comments