গুজরাট টাইটান্স (GT) অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে (MI) হারিয়ে মৌসুমের প্রথম জয় তুলে নিল। অন্যদিকে, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জন্য এটি আরেকটি হতাশাজনক শুরু, যা গত কয়েক মৌসুম ধরেই দেখা যাচ্ছে। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন প্রসিধ কৃষ্ণা এবং সাই কিশোর, যারা মধ্য ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করে মুম্বাইকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন। তবে খেলার সময় হার্দিক পান্ডিয়া এবং সাই কিশোরের মধ্যে কিছু উত্তপ্ত মুহূর্ত দেখা গেলেও, ম্যাচ শেষে তাদের উষ্ণ আলিঙ্গন প্রমাণ করল যে, খেলার উত্তাপ মাঠের মধ্যেই থাকে।
গুজরাট এই ম্যাচের জন্য ব্ল্যাক সয়েল পিচ চেয়েছিল, যা তাদের পরিকল্পনার সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই ছিল। শুরুতেই সাই সুদর্শন ও শুভমান গিল পাওয়ারপ্লেতে দারুণ ব্যাটিং করেন। এরপর সাই সুদর্শন ও জস বাটলার একসঙ্গে থেকে মুম্বাইকে ম্যাচে ফিরতে দেননি। তারা দলকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে সাহায্য করেন। বোলিংয়ের সময় মোহাম্মদ সিরাজ শুরুতেই মুম্বাইয়ের দুই ওপেনারকে দ্রুত ফেরত পাঠান, যা মুম্বাইয়ের ব্যাটিং অর্ডারে বড় ধাক্কা দেয়।
একসময় যখন তিলক ভার্মা ও সূর্যকুমার যাদব ভালো ব্যাটিং করছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল মুম্বাই ম্যাচে ফিরতে পারে। কিন্তু হঠাৎ করেই তিলক ছন্দ হারিয়ে ফেলেন এবং ঠিক তখনই প্রসিধ কৃষ্ণা বল হাতে এসে গতি পরিবর্তন করে এবং উইকেট তুলে নিয়ে মুম্বাইয়ের রানের গতিতে ব্রেক লাগিয়ে দেন। তিলকের বিদায়ের পর মুম্বাই একটি চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নেয়—হার্দিক পান্ডিয়ার বদলে মিনজকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠানো হয়, যা মোটেও কাজে আসেনি। হার্দিক নিজেও ব্যাট হাতে ছন্দ খুঁজে পাননি। শেষ পর্যন্ত সূর্যকুমার যাদবও চাপ সহ্য করতে না পেরে আউট হয়ে যান, এবং গুজরাট সহজেই ম্যাচটি নিজেদের করে নেয়।
ম্যাচ শেষে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া তার হতাশা গোপন করতে পারেননি। তিনি স্বীকার করেন, ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই দল ১৫-২০ রান কম করেছে এবং ফিল্ডিংয়ে বেশ কিছু ভুলের কারণে ২০-২৫ রান অতিরিক্ত দিয়ে ফেলেছে, যা টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বিশাল পার্থক্য গড়ে দেয়। তিনি গুজরাটের ওপেনারদের প্রশংসা করে বলেন, তারা ঝুঁকিপূর্ণ শট না খেলেও ভালো রান তুলতে পেরেছে। পাশাপাশি তিনি দলের ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান।
গুজরাট টাইটান্সের অধিনায়ক শুভমান গিল ম্যাচের পর বলেন, ম্যাচের আগে থেকেই ঠিক করা হয়েছিল যে এই ম্যাচটি ব্ল্যাক সয়েল পিচে খেলা হবে, যা তাদের দলের জন্য উপযুক্ত ছিল। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ব্ল্যাক সয়েল পিচে একবার বল পুরোনো হয়ে গেলে বাউন্ডারি মারা কঠিন হয়ে যায়, তাই তারা পাওয়ারপ্লেতে রান তোলার পরিকল্পনা করেছিলেন। গিল আরও জানান, তিনি শেষদিকে সাই কিশোরকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন, তবে পেসাররা ভালো করছিলেন বলে তিনি প্রসিধকে বেশি ওভার দিতে চেয়েছিলেন।
এই জয়ের ফলে গুজরাট টাইটান্স আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে, আর মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জন্য এটি একটি বড় সতর্কবার্তা। মৌসুমের প্রথম দিকেই দলটি বেশ কিছু দুর্বলতার সম্মুখীন হয়েছে, যা দ্রুত ঠিক করতে না পারলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আরও বিপদে পড়তে পারে। তবে হার্দিক পান্ডিয়ার নেতৃত্বাধীন দল এখনও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রাখে, এবং পরবর্তী ম্যাচগুলিতে তাদের কেমন পারফরম্যান্স দেখা যায় সেটাই এখন দেখার বিষয়।
0 Comments