পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড প্রথম ও ডি আই ঃ
বাবর রিজওয়ান ফিরলে ও ম্যাচের ফলাফল পরিবর্তন হয়নি। ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময় জয়ের পথে থাকলেও শেষ মুহূর্তের ধসে ২২ রানের ব্যবধানে ৭ উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ডের কাছে ১-০ ব্যবধানে সিরিজের প্রথম ম্যাচে হেরে গেল তারা। ৩৮ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর ছিল ২৪৬/৩, যেখানে বাবর আজম ও সালমান আগা দারুণ জুটি গড়ে তুলছিলেন। কিন্তু বাবর আজম দুর্ভাগ্যবশত একটি সময়োচিত পুল শট মারতে গিয়ে ফিল্ডারের হাতে ধরা পড়েন, এরপর যেন পুরো পাকিস্তান ইনিংস ভেঙে পড়ে।
পাকিস্তান এই ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং কন্ডিশনের সুবিধা পেয়েছিল। প্রথমে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে পেসারদের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করে দেয়। তবে দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পিচ কিছুটা সহজ হয়ে যায় এবং নিউজিল্যান্ডের মার্ক চ্যাপম্যান ও অভিষিক্ত মোহাম্মদ আব্বাসের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দলটি ৩৪৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায়। এরপরও পাকিস্তান বেশ ভালো অবস্থানে ছিল, কিন্তু মাত্র কয়েক ওভারের মধ্যেই তাদের হাত থেকে জয় ছিনিয়ে নেয় নিউজিল্যান্ড।
নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মাইকেল ব্রেসওয়েল ম্যাচ শেষে জানান, এটি ছিল দুর্দান্ত এক ওয়ানডে ম্যাচ যেখানে দুই দলের মধ্যে বেশ ওঠা-নামা দেখা গেছে। তিনি বলেন, "ওয়ানডে ক্রিকেট এখনো বেঁচে আছে! তরুণ ক্রিকেটাররা দ্রুত টি-টোয়েন্টি দক্ষতা রপ্ত করছে, যা ওয়ানডেতেও কাজে লাগছে। আমি আমার প্রধান বোলারদের আগেই ব্যবহার করে উইকেট নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম, আর সৌভাগ্যবশত সেটি সফল হয়েছে। চ্যাপম্যান ও ড্যারিলের অসাধারণ পারফরম্যান্স দলের জন্য দারুণ কাজ করেছে।"
নিউজিল্যান্ড দল শুরুতেই তিন উইকেট হারালেও চ্যাপম্যান ও ড্যারিলের অসাধারণ লড়াই তাদের ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। তারা পাকিস্তানের পঞ্চম বোলারকে টার্গেট করে রান বাড়াতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। বল হাতেও নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়রা লড়াই চালিয়ে যায় এবং শেষ মুহূর্তে তারা ম্যাচ নিজেদের করে নেয়। ব্রেসওয়েল জানান, তাদের দল কঠিন সময়েও লড়াই চালিয়ে যেতে বিশ্বাসী, আর সেটিই তাদের সফলতার মূল চাবিকাঠি।
পাকিস্তানের অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান ম্যাচ শেষে বলেন, "আমরা শুরুতে ভালো ব্যাটিং করেছিলাম, কিন্তু শেষ মুহূর্তে চাপ সামলাতে পারিনি। যখন জয়ের কাছাকাছি থাকি, তখন স্বাভাবিকভাবেই বেশি চাপ তৈরি হয়। মাত্র ৩-৪ ওভারেই ম্যাচের মোড় ঘুরে গেছে। সকালে ব্যাটিং করা কঠিন ছিল, কিন্তু চ্যাপম্যান দারুণ খেলেছে। আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে, বিশেষ করে টসের সুবিধা কাজে লাগানো দরকার। আমাদের মিডল অর্ডারে নতুন কিছু খেলোয়াড় রয়েছে, এটি আমাদের জন্য ভালো চ্যালেঞ্জ।"
এই হারে পাকিস্তান দলকে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। ম্যাচের পুরোটা সময় নিয়ন্ত্রণে থাকার পরেও মাত্র কয়েক ওভারের ব্যর্থতায় হেরে যাওয়া কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়। বিশেষ করে মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বশীলতার অভাব এবং চাপ সামলানোর দুর্বলতা চোখে পড়েছে। পাকিস্তানকে সিরিজে ফেরার জন্য তাদের ব্যাটিং বিভাগে দ্রুত উন্নতি করতে হবে, নাহলে পরবর্তী ম্যাচেও একই পরিণতির শিকার হতে পারে তারা।

0 Comments