নিউজিল্যান্ড পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে এক অসাধারণ সিরিজ জয় অর্জন করল। সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ড টসে হেরে ব্যাট করতে নামে এবং রাইস মারিউ ও মাইকেল ব্রেসওয়েলের দারুণ অর্ধশতকের ওপর ভর করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্কোর দাঁড় করায়। জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান শুরুর দিকে ভালোই টিকে ছিল, শফিক ও বাবর আজম গড়েন পঞ্চাশ রানের পার্টনারশিপ। তবে ইনিংসের মাঝামাঝি গিয়ে একের পর এক উইকেট পতনে চাপে পড়ে যায় সফরকারী দল।
ইমাম-উল-হক কনকাশনের কারণে মাঠ ছাড়েন, এরপর বাবর আজমও আউট হয়ে যান শর্ট বলের ফাঁদে পড়ে, যেটা নিউজিল্যান্ড বোলাররা অসাধারণভাবে কাজে লাগায়। পাকিস্তান ইনিংসের মাঝপথে যখন রিজওয়ান ও তাহির ব্যাটিং করছিলেন, তখন ম্যাচ কিছুটা ব্যালান্সে ছিল। কিন্তু রিজওয়ান ডাফির স্লোয়ার বলের শিকার হন, আর সেই ওভার পরেই ফাহিম আশরাফ ফিরে যান।
এরপর ম্যাচে আর ফিরে আসতে পারেনি পাকিস্তান। শেষ দিকে বেন সিয়ার্স নিজের টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে দেন। নিউজিল্যান্ডের ক্যাচিংও ছিল অনবদ্য, যেটা পুরো সিরিজেই তাদের বড় শক্তি হয়ে উঠেছিল।
নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মাইকেল ব্রেসওয়েল বলেন, "নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়ে ৩-০ তে জয় পাওয়া দারুণ সন্তোষজনক। আমাদের দলের নির্দিষ্ট একটি খেলার ধরন রয়েছে, এবং আমরা সেটাকে ঠিকভাবে অনুসরণ করেছি। আমাদের তরুণ পেসাররা যেভাবে আক্রমণাত্মক ও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছে, তা ছিল চোখে পড়ার মতো।"
পাকিস্তান অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "সিরিজটি আমাদের জন্য হতাশাজনক। কিছু ভালো দিকও আছে, যেমন বাবরের ফর্ম, নাসিম শাহের ব্যাটিং এবং সুফিয়ান মুকিমের বোলিং। তবে সত্যি কথা হলো, নিউজিল্যান্ড সব বিভাগেই আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আমরা শুধু শিখতে পারি এবং সামনে উন্নতি করার চেষ্টা করব।"
এই সিরিজটি প্রমাণ করেছে যে, নিউজিল্যান্ড কতটা গভীরতা ও পরিকল্পনার সাথে খেলেছে। তরুণদের আত্মবিশ্বাস, অভিজ্ঞদের নেতৃত্ব, এবং দলের মধ্যে সামগ্রিক ঐক্য তাদের জয় এনে দিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের জন্য এটা ছিল আত্মসমালোচনার সময়, যেখানে তারা বুঝতে পারবে কোন জায়গাগুলোতে উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভালো করতে হলে।
0 Comments