Ad Code

কেকেআরের সহজ জয়: ব্যাট-বলের ভারসাম্যে টি-টোয়েন্টির পুরনো ছন্দ

 কেকেআর বনাম রাজস্থান ম্যাচঃ

কেকেআর আবারও দেখিয়ে দিল কেন তারা চ্যাম্পিয়ন দল। আজকের ম্যাচে টি-টোয়েন্টির সেই পুরনো ধাঁচের খেলা দেখা গেল, যেখানে ১৫০-১৬০ রানের ম্যাচেও বোলারদের যথেষ্ট ভূমিকা থাকে। সহজেই জয় তুলে নিল কলকাতা, যদিও তারা পাওয়ারপ্লেতে সতর্কভাবেই ইনিংস শুরু করেছিল। ডি কক মঈন আলি প্রথম দিকে পেসারদের সামলে খেলেন, এরপর দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটার থিকশানাকে আক্রমণ করেন। পাওয়ারপ্লে শেষে একটু ক্যাজুয়াল হয়ে মঈন আলি রান আউট হয়ে যান। রাজস্থান তাদের স্পিনারদের দিয়ে চাপ তৈরির চেষ্টা করেছিল, তবে অতিরিক্ত স্পিন নির্ভরতা তাদের বিপক্ষে গেছে। হাসরাঙ্গা লেন্থ ঠিক রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাটারদের সহজেই বড় শট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন।

আই পি এল ২০২৫ নিউজ


কেকেআরের ব্যাটিংয়ে মূল ভূমিকা রেখেছেন কুইন্টন ডি কক, যিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাট করেছেন। মাঝে দু-একটি উইকেট পড়লেও তিনি ধৈর্য ধরে খেলেছেন এবং দলের জয় নিশ্চিত করেছেন। বিশেষ করে স্পিনারদের বিরুদ্ধে তিনি আক্রমণাত্মক ছিলেন এবং ম্যাচের শেষ দিকে জোফরা আর্চারের বিপক্ষেও শট খেলতে পিছপা হননি। তরুণ ব্যাটসম্যান অঙ্ক্রিশ রঘুবংশীও অপরাজিত থেকে ২২ রান করে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যান।

রাজস্থানের ব্যাটসম্যান রিয়ান পরাগ ম্যাচ শেষে বলেন, "১৭০ রান ভালো স্কোর হতো, সেটাই আমরা লক্ষ্য করেছিলাম। আমি ব্যক্তিগতভাবে একটু তাড়াহুড়ো করে ফেলেছি। উইকেট সম্পর্কে জানতাম, কিন্তু আমরা ২০ রান কম করেছি। পরিকল্পনা ছিল ডি কককে দ্রুত আউট করা, কিন্তু সেটা হয়নি। তাই পরে আমরা মধ্য ওভারে রান আটকানোর দিকে মনোযোগ দেই। কুইন্টন সত্যিই দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে, তাকে কৃতিত্ব দিতে হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, "গত বছর আমাকে চার নম্বরে ব্যাট করতে বলা হয়েছিল, এবার তিন নম্বরে। দল যেখানে চাইবে, সেখানে খেলার জন্য আমি প্রস্তুত। আমাদের দল গত বছরের তুলনায় একটু তরুণ, আমাদের একটা গোটা ম্যাচে ভালো খেলতে হবে। ছোট ছোট সময়ে আমরা ভালো খেলছি, কিন্তু পুরো ম্যাচে একসঙ্গে ভালো খেলতে পারলে ফলাফল আমাদের দিকেই আসবে।"

অন্যদিকে, আজিঙ্কা রাহানে দলের বোলিং পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বলেন, "প্রথম ছয় ওভারে আমরা সত্যিই ভালো বল করেছি। মাঝের ওভারগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যেখানে স্পিনাররা ভালোভাবে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে। মঈন আলি আজ সুযোগ পেয়ে দারুণ বল করেছে। আমাদের দল এমন একটা পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যেখানে খেলোয়াড়রা ভয়ডরহীনভাবে খেলতে পারে। বোলিং ইউনিটও চমৎকার ছিল, বিশেষ করে মঈন।"

এই ম্যাচটি আবারও প্রমাণ করল, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট শুধু বিশাল রান আর চার-ছক্কার খেলা নয়। ব্যাট-বলের মধ্যে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ম্যাচ উপভোগ্য হয়। কেকেআরের ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই দারুণ পারফরম্যান্স দলকে সহজ জয়ের পথে নিয়ে গেছে। অন্যদিকে, রাজস্থানের জন্য এটি ছিল শিক্ষা নেওয়ার মতো একটি ম্যাচ, যেটি থেকে তারা ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে। এখন তাদের সামনে পরবর্তী চ্যালেঞ্জ চেন্নাইয়ের বিপক্ষে, যেখানে তারা নতুন উদ্যমে ফিরে আসতে চায়।

Post a Comment

0 Comments