Ad Code

সেইফার্ট ঝড়ে উড়ে গেল পাকিস্তান! ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতল নিউজিল্যান্ড

 পাকিস্তান বনাম নিউজিল্যান্ড ৫ম টি-২০ঃ

নিউজিল্যান্ড বনাম পাকিস্তানের এই সিরিজের শেষ ম্যাচ যেন একাই নিজের করে নিলেন টিম সেইফার্ট! মাত্র ৩৮ বলে ৯৭ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ১২৯ রানের লক্ষ্যকে খেলাচ্ছলে তাড়া করলেন তিনি। প্রথম বল থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন এবং কোনো পাকিস্তানি বোলারকে রেহাই দেননি। বিশেষ করে জাহানদাদ শাদাবের ওপর যেন একপ্রকার তাণ্ডব চালিয়েছেন। কেবল সুফিয়ান কিছুটা প্রতিরোধ গড়তে পেরেছিলেন এবং দুইটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ শেষ হতে সামান্য বিলম্ব ঘটিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত কিউইরা সহজ জয় তুলে নিয়ে সিরিজ - ব্যবধানে জিতে নিলো।

ক্রিকেট নিউজ


এই সিরিজে নিউজিল্যান্ড দলের দাপট ছিল অবিস্মরণীয়। পাকিস্তান দল নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়ে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দল গঠনের চেষ্টা করছে। কিন্তু এই সিরিজে তাদের দুর্বলতা একেবারে স্পষ্ট হয়ে গেছে। বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই ফর্মে ছিলেন না, এবং পুরো সিরিজে পাকিস্তানের খুব বেশি ইতিবাচক দিক খুঁজে পাওয়া যায়নি। সুফিয়ান ভালো বোলিং করেছেন, তবে তাকে যদি আগেই সুযোগ দেওয়া হতো, তাহলে হয়তো আরও ভালো কিছু হতে পারত। আবরার আহমেদও ভালো করেছেন, তবে ব্যাটিং লাইনআপ বেশিরভাগ সময়েই ধসে পড়েছে। অধিনায়ক কিছুটা লড়াই করেছেন, কিন্তু গোটা দল হিসেবে পাকিস্তান পুরো সিরিজ জুড়েই ছন্দহীন ছিল।

আজকের ম্যাচে পিচ আগের চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল, আর কিউই বোলাররা সেটি ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে। পাকিস্তানি ব্যাটাররা চেষ্টা করলেও ১২৮ রানের পুঁজি খুব একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল না। সালমান আলি আঘা শাদাব খান কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন, কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে তা যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত এই সিরিজ পাকিস্তানের জন্য একটি শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল।

ম্যাচ শেষে সালমান আলি আঘা স্বীকার করেন যে, নিউজিল্যান্ড দল পুরো সিরিজে পাকিস্তানকে একেবারে ছাপিয়ে গেছে। তবে তিনি কিছু ইতিবাচক দিকও খুঁজে পেয়েছেন, যেমন হাসান হারিসের ব্যাটিং এবং সুফিয়ানের বোলিং। তিনি আরও বলেন, আসন্ন এশিয়া কাপ এবং বিশ্বকাপকে সামনে রেখেই পাকিস্তান দল প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে ওয়ানডে দলে আরও অভিজ্ঞ খেলোয়াড় থাকায় সেখানকার পারফরম্যান্স ভিন্ন হতে পারে।

নিউজিল্যান্ডের ব্রেসওয়েল সিরিজ জয়ের পর বলেন, পুরো বোলিং ইউনিট অসাধারণ পারফর্ম করেছে। বিশেষ করে জ্যাকব নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দলীয় ভারসাম্য বজায় রেখেছেন। সিরিজের শুরুতে অকল্যান্ডে হারার পরও কিউইরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। তাদের ধারাবাহিকতা দলগত প্রচেষ্টার কারণেই তারা এই সিরিজে এতটা সফল হয়েছে। এই জয় নিশ্চিতভাবেই নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের বার্তা বহন করছে।

Post a Comment

0 Comments