আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিলঃ
মনুমেন্তালে ম্যাচ শুরুর আগেই আনন্দের খবর পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত হয়ে গেছে, যা তাদের বিশ্বকাপ বাছাই ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম যোগ্যতা অর্জন। এমন খবরে স্বাভাবিকভাবেই তাদের মনোবল ছিল তুঙ্গে। আর এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই তারা মাঠে নামে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে। কিক-অফের পর প্রথম দুই মিনিট ব্রাজিল বল ছুঁতেই পারেনি, তখনই বোঝা যাচ্ছিল আর্জেন্টিনা কিছু একটা বিশেষ করে দেখানোর জন্য প্রস্তুত। আর সেটাই ঘটল—মেসি ও লাউতারো মার্তিনেজ ছাড়া দল নামিয়েও ৪-১ গোলের দুর্দান্ত জয় তুলে নিল তারা।
খেলার মাত্র চার মিনিটের মাথায় গোল করেন হুলিয়ান আলভারেজ, যা বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ম্যাচের ইতিহাসে তৃতীয় দ্রুততম গোল। এর ঠিক আট মিনিট পর এনজো ফার্নান্দেজ আরও একটি গোল করলে ব্রাজিলের রক্ষণপ্রাচীর ধসে পড়ে। তখনো পর্যন্ত ব্রাজিল একটি ভালো আক্রমণও সাজাতে পারেনি। তাদের হতাশা বাড়িয়ে আর্জেন্টিনা আরও ইতিহাস গড়ে—এত দ্রুত কখনো দুই গোল হজম করেনি ব্রাজিল! তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণের ভুলের সুযোগ নিয়ে ২৬ মিনিটে মাথিয়াস কুনিয়া একমাত্র গোলটি করে ব্রাজিলকে কিছুটা স্বস্তি এনে দেন।
প্রথমার্ধেই আরও একটি গোল হজম করে ব্রাজিল। ৩৬ মিনিটে থিয়াগো আলমাদা শক্তিশালী এক শট নিয়ে ব্রাজিলের রক্ষণের পরীক্ষা নেন, যা গোলকিপার বেন্তো ঠেকিয়ে দেন। কিন্তু পরের মিনিটেই অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ব্রাজিলের জালে বল পাঠিয়ে দেন, এনজো ফার্নান্দেজের নিখুঁত পাস থেকে পাওয়া বলে দুর্দান্ত ভলিতে গোল করেন তিনি। প্রথমার্ধে ৬১ শতাংশ বল দখলে রেখে আর্জেন্টিনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল খেলার।
বিরতির পর ব্রাজিল একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন এনেও ম্যাচের গতি ফেরাতে পারেনি। তাদের আক্রমণভাগ ও মিডফিল্ড ছিল একেবারে আলাদা হয়ে পড়া দুটি দ্বীপের মতো। রাফিনিয়া চেষ্টা করেছিলেন ফ্রি-কিক থেকে গোল করতে, কিন্তু তেমন সফল হননি। আর্জেন্টিনা ঠিকই আরেকটি গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয়। ৭১ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় জিউলিয়ানো সিমিওনে তালিয়াফিকোর দুর্দান্ত ক্রস থেকে দুরূহ কোণ থেকে শট নিয়ে ব্রাজিলের জালে বল জড়িয়ে দেন। এরপরও বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনা, তবে ফার্নান্দেজ ও রদ্রিগো দি পল নিশ্চিত গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন।
এই জয় শুধু তিন পয়েন্টের জয় নয়, এটি আর্জেন্টিনার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণও। খেলা শুরুর আগে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া বলেছিলেন, তিনি আর্জেন্টিনাকে "গুঁড়িয়ে দেবেন"। কিন্তু বাস্তবে হলো উল্টো, ব্রাজিলেরই বড় ব্যবধানে হার। ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর এবারই প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তারা ৪ গোল হজম করল। ১৪ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে এখনো দক্ষিণ আমেরিকা বাছাইপর্বের শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা, আর ব্রাজিল ২১ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে রয়েছে। এই হারে তাদের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠল।
0 Comments