Ad Code

মেসিবিহীন আর্জেন্টিনাকে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনহার হুমকি

ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনাঃ

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচের আগে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনহা। তিনি আত্মবিশ্বাসী যে, আগামী মঙ্গলবারের ম্যাচে তিনি গোল করবেন এবং দুই দলের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। এক সাক্ষাৎকারে রাফিনহা বলেন, "আমরা ওদের পিটিয়ে হারাব... মাঠের ভেতরে, এমনকি দরকার হলে মাঠের বাইরেও!" তার এমন বক্তব্য আর্জেন্টিনায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে এবং অনেকেই এটাকে হুমকি হিসেবে দেখছেন।

ফুটবল নিউজ


রাফিনহার উসকানিমূলক মন্তব্যের পরও আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বিষয়টিকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে চাননি। তিনি শান্তভাবে বলেন, "মাঠে আমরা যোদ্ধা, কিন্তু মাঠের বাইরে আমরা বন্ধু।" স্কালোনি আরও বলেন, আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিল ম্যাচ একটি গুরুত্বপূর্ণ লড়াই, তবে এটিকে খেলার চেয়ে বেশি কিছু বানানো উচিত নয়। তিনি লিওনেল মেসি নেইমারের বন্ধুত্বের উদাহরণ টেনে বলেন, "কোপা আমেরিকার ফাইনালের পর মারাকানার সিঁড়িতে ওদের যে বন্ধুত্বপূর্ণ মুহূর্ত দেখা গিয়েছিল, সেটাই আমাদের আসল চিত্র হওয়া উচিত।"

এল মনুমেন্টালে মঙ্গলবারের ম্যাচটি রাফিনহার জন্য একটি বিশেষ চ্যালেঞ্জ হয়ে আসবে, কারণ ২০২১ সালে এই মাঠেই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডির কনুইয়ের আঘাতে তার মুখে পাঁচটি সেলাই দিতে হয়েছিল। অতীতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ভালো ফল করতে না পারা ব্রাজিলের জন্য এটি আরও কঠিন ম্যাচ হতে চলেছে। গত ছয় বছরে তারা একবারও আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারেনি, এমনকি আর্জেন্টিনার মাটিতে তাদের জয়শূন্য সময় ১৬ বছর ছুঁয়েছে।

বর্তমানে আর্জেন্টিনা দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে। তাদের ঘনিষ্ঠতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইকুয়েডরের চেয়ে ছয় এবং ব্রাজিলের চেয়ে সাত পয়েন্টে এগিয়ে আছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে ব্রাজিলের এই ম্যাচ জেতা জরুরি, কারণ তারা তৃতীয় স্থানে থাকলেও তাদের পেছনের দলগুলো ব্যবধান কমিয়ে আনছে।

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব নিশ্চিত করার জন্য এই ম্যাচে জয়ের প্রয়োজন নেই। যদি মঙ্গলবারের আগে হওয়া ম্যাচে বলিভিয়া উরুগুয়ের বিপক্ষে জয় পেতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আর্জেন্টিনা অটোমেটিকভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেবে। অন্যথায় ব্রাজিলের বিপক্ষে ড্র করলেই স্কালোনির দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পেয়ে যাবে। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের শীর্ষ ছয় দল সরাসরি বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাবে।

ম্যাচের আগে রাফিনহার আগ্রাসী মন্তব্য যেমন উত্তেজনা বাড়িয়েছে, তেমনি আর্জেন্টিনা শিবিরের শান্ত কৌশলী প্রতিক্রিয়াও এই দ্বৈরথের মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি শুধুমাত্র আরেকটি ম্যাচ নয়, বরং দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মর্যাদার লড়াই, যেখানে মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত সব নির্ধারণ করবে।

 

Post a Comment

0 Comments